logo

Copyright ©2018 HASBD

January 06, 2017

টেলিভিশন দেখার ক্ষতিকর দিকগুলি বিবেচনা করুন

Category: Food & Nutrition, Life Style,

টেলিভিশন দেখার ক্ষতিকর দিকগুলি বিবেচনা করুন

আপনার কি দীর্ঘসময় টিভি দেখার অভ্যাস আছে। তাহলে এখনই সতর্ক হয়ে যান। টিভি দেখার জন্য একই জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হয় যা আপনার দেহে ও মনে ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে।

 

টিভি দেখার ক্ষতিকর দিকসমূহঃ

অনেকে মনে করেন শুধু শিশুরাই দীর্ঘসময় টিভি দেখে। শুধু শিশুরাই নয়, অনেক প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিই এই সমস্যায় আক্রান্ত। এ কারনে তারা নানাবিধ মানসিক ও শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। নিচে টেলিভিশন দেখার কিছু ক্ষতিকর দিকের আলোচনা করা হল-

 

প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যাক্তির উপর টিভি দেখার ক্ষতিকর প্রভাবঃ

  • গবেষনায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, দিনে তিন ঘন্টা বা তারও বেশি সময় যারা টিভির সামনে ব্যয় করেন তারা দিনে এক ঘন্টা বা তার কম সময় টিভি দেখেন এমন ব্যক্তির তুলনায় কম বাঁচেন।
  • ওভার ইটিং এর সাথে টেলিভিশন দেখার একটি মৌলিক সম্পর্ক রয়েছে। যখন আপনি টিভি দেখেন তখন স্বভাবতই আপনি একটু বেশি খান, কারন আপনি তখন বুঝতে পারেন না যে, আপনার পেট অলরেডি পরিপূর্ণ হয়ে আছে।
  • টিন এজারদের মধ্যে টিভির ক্ষতিকর প্রভাব মারাত্মক। টিভিতে তারা যা দেখে বাস্তব জীবনে সে রকমটাই হতে চায়। যখন তারা সে রকম হতে না পারে তখন তাদের মাঝে বিষন্নতা ভর করে। বেশি সময় টিভির সামনে কাটালে তারা স্বাভাবিক জীবন থেকে কিছুটা দূরে সরে পড়ে, এক সময় জীবনটাকে তাদের কাছে বোরিং মনে হয়।
  • টিভিতে দেখা আবেগঘন মুহুর্তটি আপনার ব্যক্তি জীবনে প্রভার বিস্তার করে। এই ঘটনাগুলি আপনার অবচেতন মনে নিয়ন্ত্রকের জায়গা দখল করে নেয়। হরর মুভি আপনাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত করতে পারে।
  • অনেক টেলিভিশন প্রোগ্রাম রয়েছে যা আপনাকে সম্মোহিত করে রাখে; আপনি বুঝতে পারেন না আপনি যা দেখছেন তা আপনার মনে কি ধরনের প্রভাব বিস্তার করছে এবং আনমনে আপনি তা গ্রহন করে ফেলছেন। এই প্রোগ্রামগুলি দেখার সাথে সাথে আপনার সৃজনশীল ও বিশ্লেষনধর্মী চিন্তার ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।

 

শিশুদের উপর টিভি দেখার ক্ষতিকর প্রভাবসমূহঃ

  • গৃহস্থালি বা অনেক ব্যক্তিগত কাজে আমরা যখন খুব ব্যস্ত থাকি তখন আমরা চাই শিশুরা টিভি দেখুক এবং আমাদের বিরক্ত না করুক।কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, দীর্ঘসময় টিভির সামনে বসে থাকার কারনে তারা কি কি ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে? আসুন জেনে নিই এবং সময় থাকতে সচেতন হই-
  • টিভির সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারনে শিশুদের শারীরিক কর্মকান্ড ব্যাহত হয়। তারা খেলাধুলা থেকে দূরে থাকে এবং নানাবিধ শারিরিক সমস্যার সম্মুখিন হয়।
  • বেশিক্ষন টিভি দেখার কারনে অনেক শিশুই চোখের সমস্যায় ভোগে।
  • তাদের সামাজিকতার বিকাশ ঘটে না। তারা টিভির সামনে বসে থাকে এবং মনে করে তাদের কারও প্রয়োজন নেই এবং এইভাবে সময় পার করে দেয়।
  • টেলিভিশন শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্টে ব্যাঘাত ঘটায়।গবেষনার ফলাফল অনুযায়ী, অল্প বয়সে বেশি টিভি দেখার কারনে শিশুর মস্তিষ্কে পরিবর্তন সাধিত হয়; শুধু তাইনা, তাদের আচরনেরও পরিবর্তন হয়।
  • শিশুরা টিভিতে কি ধরনের প্রোগ্রাম দেখবে তা আপনি সবসময় নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন না। অনেক সময়ই শিশুরা টিভিতে মারামারি, খুন, ড্রাগ ও সেক্সের মত ভয়ানক বিষয়গুলি দেখে থাকে, যা তাদের ভবিষ্যত জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে।
  • টিভিতে যা দেখে তারা তা অনুকরন করতে চায়। তার চায় সুপারহিরো বা ব্যাটম্যান হতে। টিভিতে বিভিন্ন রোমহর্ষক দৃশ্য দেখার কারনে তারা অনেক সময় এগ্রেসিভ আচরন করে। তার চেয়েও ভয়াবহ বিষয় হল-বেশি টিভি দেখার কারনে তাদের মাঝে “স্ক্যারি ওয়ার্ল্ড সিনড্রোম” দেখা দিতে পারে। অনেক বেশি ভায়োলেন্স, মারামারি, গোলাগুলি দেখার কারনে তাদের কাছে মনে হতে পারে যে, এই পৃথিবী খুব ভয়ংকর এবং এটি কোন নিরাপদ জায়গা নয়।
  • বিজ্ঞাপনের কারনে শিশুদের অস্বাস্থকর খাবার অভ্যাস গঠন হতে দেখা যায়।

 

কি করা উচিতঃ

টিভি দেখার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আপনি এখন সচেতন। স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহন করতে পারেন-

  • টিভি দেখার সময় যেহেতু একই জায়গায় অনেক সময় বসে থাকতে হয়, তাই অসাড়তা কাটাতে নির্দিষ্ট বিরতিতে হালকা ব্যায়াম করে নিতে পারেন।
  • অস্বাস্থকর খাবার পরিত্যাগ করুন।
  • সবচেয়ে ভাল হয়, টিভি দেখার জন্য একটি সময় নির্দিষ্ট করে নিন এবং টিভি দেখার মোট সময় যেন কখনই এক ঘন্টার বেশি না হয়।

 

টিভি দেখার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশুদের মুক্ত রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলি গ্রহন করুন-

  • টিভি প্রোগ্রাম নিয়ে কিছুটা রিসার্চ করুন। আগে নিজে দেখুন তারপর শিশুদের দেখতে দিন। বিজ্ঞাপন দেখা থেকে শিশুদের বিরত রাখুন।
  • আপনার শিশুর বয়স দুই থেক পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে হলে তাকে সপ্তাহে বত্রিশ ঘন্টার বেশি টিভি দেখা থেকে বিরত রাখুন। তাদের শোবার ঘরে টিভি রাখবেন না।
  • টিভি দেখাকে একটি পারিবারিক বিষয় হিসাবে গড়ে তুলুন; শিশুকে একা টিভি দেখতে না দিয়ে পরিবারের সবাই মিলে টিভি দেখুন, তাহলে আপনি ক্ষতিকর টিভি প্রোগ্রাম দেখা থেকে শিশুকে মুক্ত রাখতে পারবেন।